লেখা · জ্যোতিষ ও ঐতিহ্য
বাংলা রাশিচক্র: ১২ রাশির নাম, বৈশিষ্ট্য ও উৎপত্তি
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জন্মতারিখ শুনেই আমরা প্রায়ই বলে ফেলি "ও তাহলে তুমি কন্যা রাশি" বা "আমি মীন রাশির" — কিন্তু এই ১২টা রাশির নাম কোথা থেকে এলো, আর এগুলোর মানেই বা কী? বাংলা রাশিচক্র আসলে প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটা অংশ, যেখানে আকাশকে ১২টা সমান ভাগে ভাগ করে প্রতিটা ভাগের নাম দেওয়া হয়েছে সেখানে দেখা তারামণ্ডলীর আকৃতি অনুযায়ী।
এই ১২ রাশি আসলে সেই ২৭টি নক্ষত্রেরই বড় সংস্করণ — প্রতিটা রাশিতে সাধারণত সোয়া দুইটা নক্ষত্র পড়ে। সূর্য বছরে একবার এই ১২টা রাশির মধ্য দিয়ে ঘুরে আসে, আর জন্মের সময় সূর্য যেই রাশিতে অবস্থান করছিল, সেটাই ধরা হয় সেই ব্যক্তির রাশি।
বাংলা রাশিচক্রের ১২টি রাশি
মেষ
রাশিচক্রের প্রথম রাশি। প্রতীক মেষ (ভেড়া)। সাহসী, উদ্যমী ও নেতৃত্বপ্রবণ স্বভাবের সাথে সম্পর্কিত।
বৃষ
প্রতীক ষাঁড়। ধৈর্যশীল, স্থিতধী ও বাস্তববাদী স্বভাবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
মিথুন
প্রতীক জোড়া মানব মূর্তি। যোগাযোগপ্রিয়, বুদ্ধিদীপ্ত ও বহুমুখী চিন্তাধারার প্রতীক।
কর্কট
প্রতীক কাঁকড়া। আবেগপ্রবণ, পরিবারকেন্দ্রিক ও যত্নশীল স্বভাবের সাথে জড়িত।
সিংহ
প্রতীক সিংহ। আত্মবিশ্বাসী, উদার ও নেতৃত্বদানকারী চরিত্রের প্রতীক।
কন্যা
প্রতীক কুমারী নারী মূর্তি। বিশ্লেষণধর্মী, খুঁতখুঁতে ও পরিশ্রমী স্বভাবের প্রতীক।
তুলা
প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। ভারসাম্যপ্রিয়, কূটনৈতিক ও সৌন্দর্যপ্রিয় স্বভাবের সাথে সম্পর্কিত।
বৃশ্চিক
প্রতীক বিছা। তীব্র আবেগ, রহস্যময়তা ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
ধনু
প্রতীক ধনুর্ধর। অভিযাত্রাপ্রিয়, আশাবাদী ও স্বাধীনচেতা স্বভাবের প্রতীক।
মকর
প্রতীক মকর (কুমির-সদৃশ প্রাণী)। পরিশ্রমী, লক্ষ্যস্থির ও দায়িত্বশীল চরিত্রের প্রতীক।
কুম্ভ
প্রতীক কলসধারী মানব মূর্তি। মানবহিতৈষী, উদ্ভাবনী ও স্বাধীনচেতা স্বভাবের প্রতীক।
মীন
প্রতীক জোড়া মাছ, চক্রের শেষ রাশি। কল্পনাপ্রবণ, সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল স্বভাবের প্রতীক।
রাশি আর মাসের সম্পর্ক
বাংলা মাসের নামগুলো যেমন নক্ষত্র থেকে এসেছে, তেমনি রাশিগুলোও একেকটা নির্দিষ্ট সময়কালের সাথে যুক্ত — সূর্য প্রতি মাসে মোটামুটি একটা রাশি অতিক্রম করে। এই কারণেই বাংলা মাসিক ক্যালেন্ডারে এবং পঞ্জিকায় রাশির হিসাবও একসাথে দেখানো হয় — একটা নির্দিষ্ট তারিখ কোন রাশির অন্তর্গত, তা সহজেই জানা যায়।
রাশিচক্র মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞান আর জ্যোতিষশাস্ত্রের মেলবন্ধনে তৈরি একটা প্রাচীন ব্যবস্থা, যা আজও বাংলার সংস্কৃতি, পঞ্জিকা আর দৈনন্দিন কথাবার্তায় গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
